এ পর্যন্ত বহুবার কার্ল মার্ক্সের মৃত্যু ঘোষিত হয়েছে। এই ঘোষণা কেন বার বার করতে হয় তা ভাববার মতো ঘটনা। তবে ১৯৯০-এর পর মার্ক্সপন্থার এক ঘরানার বিরাট পরীক্ষণ থমকে যাওয়াতে এমন সব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এলো যা মার্ক্স তাঁর কর্মব্রতের শুরুত্ শুধিয়েছিলেন। এই সব প্রশ্ন ছিল তাঁর কালের জ্ঞান ও দুনিয়া যেখানে এসে দাঁড়িয়েছিল তার সাথে বাস্তব মোকাবিলা। এ মোকাবিলার ফল হিসেবে প্রথাগত দর্শনের মৃত্যু ঘোষণা করে প্রস্তাবিত হলো নতুন দর্শন। এই দর্শন দুনিয়াবি হালচালের ভেতরেই তথাকথিত বস্তু ও মরমী সমস্যা বিলোপের প্রস্তাবনা দেয়, হাজির করে মানুষের সাথে জগতের সম্পর্ক বিচারে মানুষে মানুষে বৈরিতা ও সংযোগের বাস্তব পর্যালোচনা। মার্ক্সের এই মূল প্রস্তাবনা বাস্তব রাজনৈতিক চর্চা বা রাষ্ট্র বিচারে পর্যাপ্ত প্রায়োগিক গুরুত্ব এখনো পায়নি।
এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে অনেক আগে। এর সাথে জড়িত মার্ক্সকে পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও পর্যালোচনার তাগিদ। সেই সুবাদে এরিক ফ্রমের Marx’s Concept of Man বইয়ের বাংলা ভাষান্তর “মার্ক্সের মানুষ” পেশ করা হলো। বিবেচক পাঠক, খেয়াল রাখবেন। এর মাঝ দিয়ে মার্ক্সকে প্রায়োগিক অনুধাবনের একটি সম্ভাবনা হাজির করা হচ্ছে মাত্র।
এখন পর্যন্ত মার্ক্সের চিন্তার যে রাজনৈতিক প্রয়োগ হয়েছে সে বিচার করতে গিয়ে এখানে সরলীকরণ ঘটাতে পারে—সে আশঙ্কা খোদ এরিক ফ্রমেই করেছেন। সে নিরিখে আমাদের নিজ বিচার-বুদ্ধির ওপর ভরসা রাখতে হবে। এই বিচার-বুদ্ধি আর কাণ্ডজ্ঞানকে আমরা যথোচিত শাণিত করতে গাফলতি করেছি, কাজে লাগিয়েছি আরো কম। মারাত্মক সেই ঘাটতি বুঝতে রসদ জোগাবে—এই আশাতে বইখানি প্রকাশিত হলো।